বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া সাকা হাফং 50

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া- সাকা হাফং (Saka Haphong)
উচ্চতা:  ১,০৫২ মিটার (৩,৪৫১ ফুট)
নামসমূহ: সাকা হাফং/ত্ল্যাং ময়, মোদক মুয়াল,মোদক টং
পরিসীমা: মোদক রেঞ্জ
স্থানাঙ্ক: ২১°৪৭′১৯″ উত্তর ৯২°৩৬′৩১″ পূর্বস্থানাঙ্ক: ২১°৪৭′১৯″ উত্তর ৯২°৩৬′৩১″ পূর্ব | OSM মানচিত্র
থানচি, বান্দরবান
মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন
ভূবিদ্যা ধরন পর্বত

আনুষ্ঠানিকভাবে ত্লাংময়কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বলা যায়, সম্ভবত এর চেয়ে বেশি উচ্চতার আর কোন চূড়া বাংলাদেশে নেই। চূড়াটি ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম আরোহন করেন ইংরেজ পর্বতারোহী জিং ফুলেন। সেসময় তিনি চূঁড়াটির উচ্চতা নির্ণয় করেন ১,০৬৪ মিটার আর অবস্থান দেখান 21°47′11″উ. 92°36′36″পূ. / 21.78639°উ. 92.61°পূ.। তাঁর দেখানো এ অবস্থান রাশিয়া নির্মিত ভৌগোলিক মানচিত্রে এর অবস্থানের সাথে হুবহু মিলে যায়। ২০০৭ সালে প্রথম বাংলাদেশী দল ত্লাংময় আরোহন করেন। ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে সেই দলে ছিলেন দেশের এভারেস্ট আরোহনকারী পর্বতারোহী সজল খালেদ। মূলত সেই সময় থেকে পরিচিত হয়ে উঠে ত্লাংময় নামটি। ২০১১ খ্রিস্টাব্দে দুটি অভিযাত্রিক দল সাকা হাফং-এর উচ্চতা নির্ণয় করেন ৩,৪৮৮ ও ৩,৪৬১ ফুট। বাংলাদেশের স্বীকৃত সর্বোচ্চ চূড়া কেওক্রাডঙের (৩,১৭২ ফুট) চেয়ে এর উচ্চতার সকল পাহাড়চূঁড়া অনেক বেশি।

মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের এই অধ্যাপক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তথ্য প্রযুক্তিবিদ (জিও-ইনফর্মেটিক্স) ড. সাইদুর রহমান চৌধুরী।গবেষণা বিশ্লেষণে জানা গেছে, পর্বতশৃঙ্গের উচ্চতা পরিমাপের জন্য বিশ্বে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। একটি কলোরাডো পদ্ধতিতে, অন্যটি অ্যালান ডওসন পদ্ধতি। তুলনামূলকভাবে কম পাহাড়ি দেশে কলোরাডো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০০ ফুটের অধিক উচ্চতাসম্পন্ন স্থানকে পর্বত (মাউন্টেন) বলা হয়। আবার উচ্চতা যত বেশিই হোক নির্দিষ্ট মাত্রার আশপাশের এলাকা থেকে কত উঁচু তার পরিমাপ (টপোগ্রাফিক্যাল প্রমিনেন্স) না থাকলে একটি পর্বতচূড়াকে স্বতন্ত্র শৃঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কলোরাডো নিয়ম পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র শৃঙ্গ হওয়ার জন্য একটি চূড়ার কমপক্ষে ৩০০ ফুট প্রমিনেন্স থাকতে হবে। বাংলাদেশ তুলনামূলক কম পাহাড়ি দেশ বিধায় অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী তাঁর গবেষণায় কলোরাডো নিয়ম অনুসরণ করেন।

এ পদ্ধতিতে গবেষক ৭৫টি পর্বতশৃঙ্গ চিহ্নিত করেছেন এবং তাদের উচ্চতা, প্রমিনেন্স ও ক্রম নির্ধারণ করেছেন। উচ্চতার ক্রমেই দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দেখানো হয়েছে বান্দরবানের মোদক টংকে। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, সরকারি হিসাবে তাজিংডংয়ের উচ্চতা চার হাজার ৩০০ ফুট দেখানো হলেও তা সঠিক নয়। আসলে এর উচ্চতা দুই হাজার ৫৮৯ ফুট। ব্রিটিশ ভারতের ১৯৩৮ সালের এবং পাকিস্তান আমলের ১৯৪৮ সালের মানচিত্র অনুসরণ করে তৈরি করা যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর টপোগ্রাফিক মানচিত্রেও দেখা যায় মোদক টংয়ের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ইংরেজ পর্বতারোহী গিঞ্জ ফুলেন এবং পরে দেশীয় আরোহীদের মোদক টং-এ আরোহণ এবং জিপিএসের মাধ্যমে উচ্চতার ডাটা সংগ্রহ করার পর মোদক টং (সাকা হাফং) দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বলে দাবি উত্থাপিত হতে থাকে।

কিভাবে যাবেন:

বিভিন্ন পরিবহনের বাসে ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বান্দরবানে যাওয়া যায় । বান্দরবানে পৌঁছানোর পরে তিন দিক সাকাহাফং থেকে যাওয়া যায় – থানচি, রুমা বাজার ও রেমাক্রি বাজার দিয়ে ।

রুমা থেকে রুট

বগা লেক – কেওক্রাডং – থাইক্যাং পাড়া – ( নতুন বোম পাড়া হয়ে ) দুলাচরণ পাড়া – হান্জরাই পাড়া – নিফিউ পাড়া – সামিট । প্রথম দিকের দলগুলো অবশ্য দুলাচরণ পাড়া থেকে শালুকিয়া পাড়া উঠে যেতো, এর পর নেফি্উ হয়ে সামিট, এখন আর শলুকিয়া খুব একটা যাওয়া হয় না ।

বগা লেক – কেও – থাইক্যাং পাড়া না ঢুকে কবরস্হান থেকে ডানে মোড় নিয়ে তাম্ল পাড়ার নীচ দিয়ে রেমাক্রি খাল – নতুন বোম পাড়া -খাল ধরে দুলাচরণ পাড়া – এরপর নেফি্উ পাড়া – সামিট ।

বর্ষাকালে খাল ধরে যাওয়া কঠিন বলে অনেক সময় থাইক্যাং পাড়া- তাম্ল পাড়া – হয়ে হান্জরাই পাড়া – নেফিউ – সামিট । ( তবে তাম্ল বা নতুন তাম্ল দিয়ে পথ অনেকটা ঘুর পথ, উঠা নামাও বেশী )

বগা লেক – কেও – বাকলাই – সিম্পাম্পি – ( তাজিংডং সামিট বাড়তি) তারপর রেমাক্রি খাল নেমে হান্জরাই – নেফিউ – সামিট ( ঘুরপথ, পানির সমস্যা আছে, তবে তাজিং ডং বোনাস )

থানচি থেকে রুট

থানচি – বোর্ডিং পাড়া – শেরকর পাড়া – তাজিংডং – সিম্পাম্পি পাড়া -হান্জরাই পাড়া – নেফিউ পাড়া – সামিট। শেরকর পাড়া থেকে তাজিং ডং না গিয়ে দো তং পাড়া হয়ে সাজাই পাড়া দিয়েও যাওয়া যাবে, তবে শেরকর থেকে দোতং পাড়া ট্রেইল নেই জংগল আর ঝোপ-ঝার কেটে যেতে হবে। ( উঠা নামা বেশী, পানি ছায়া কম )

থানচি – বোর্ডিং পাড়া – জিরি পথে কাইতং পাড়া -জিরি ধরে আগানো – সিম্পাম্পি পাড়া উঠা -হান্জরাই পাড়া – নেফিউ পাড়া – সামিট ।

রেমাক্রি থেকে রুট

নাফা খুম – দুলা পাড়া – সাজাই পাড়া – নেফিউ পাড়া সামিট ।
নাফা খুম – জিন্না পাড়া – অমিয়াখুম – সাতভাই খুম হয়ে হান্জরাই পাড়া – সামিট
নাফা খুম – জিন্না পাড়া – অমিয়াখুম – হয়ে সাজাই পাড়া – সামিট

রুট ২ ও ৩ এ জিন্নাহ পাড়া বাদ দিয়ে থুইসা পাড়া অতিরাম পাড়া হয়েও যাওয়া যাবে । বর্তমানে এদিক দিয়েই বেশী জনপ্রিয় ।

কোথায় থাকবেন:

বান্দরবানের পাড়াগুলোতে রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে । ক্যাম্পিং করার ইচ্ছে থাকলে তাবু নিয়ে যেতে পারেন ।

বান্দরবানের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানসমূহ

⋆ প্রান্তিক লেক ⋆ মারায়ন ডং ⋆ কংদুক বা যোগী হাফং ⋆ বাকলাই ঝর্ণা ⋆ সাকা হাফং ⋆ কেওক্রাডং ⋆ আন্ধারমানিক ⋆ ডিম পাহাড় ⋆ ডামতুয়া ঝর্ণা ⋆ চিংড়ি ঝর্ণা ⋆ নীলাচল ⋆ নীলগিরি ⋆ মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ⋆ নাফাখুম জলপ্রপাত ⋆ সাইরু হিল রিসোর্ট ⋆ আমিয়াখুম জলপ্রপাত ⋆ সাতভাইখুম জলপ্রপাত ⋆ বগাকাইন লেক/ বগা লেক ⋆ জাদিপাই ঝর্ণা ⋆ বুদ্ধ ধাতু জাদি / স্বর্ণমন্দির ⋆ ডাবল ফলস ⋆ মদক মুয়াল বা জাওত্ল্যাং বা জ ত্লং পর্বত ⋆ আলীকদম গুহা ⋆ রূপমুহুরী ঝর্ণা ⋆ চিম্বুক পাহাড় ⋆ শৈলপ্রপাত ⋆ মিলনছড়ি ⋆ লামা ⋆ লুং ফের ভা সাইতার ঝর্ণা ⋆ পাইন্দু সাইতার/ তিনাপ সাইতার ঝর্না ⋆ ঋজুক ঝর্না ⋆ তিন্দু

দরকারি জিনিস কি কি নেবেন-

ক্যামেরা, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, ন্যাশনাল আইডি কার্ড ইত্যাদি। আবহাওয়ার অবস্থা সব বুঝে পোশাক নিন। ব্যাগ যত কম ভারী হবে ততোই ভাল।
বিনোদন: গান শোনার যন্ত্র, হেডফোন, ভাল কোন বই হতে পারে আপনার ভ্রমণ সংগী। যাতে মনে ভিতরে একঘেয়ামি না আসে ।

মেডিকেশন এবং প্রসাধনী:

ভ্রমণে অবশ্যই প্রাথমিক চিকিৎসা দ্রব্য বহন করা উচিৎ। পেইন কিলার, অডোমস ইত্যাদি সাথে নিন। গ্যাস্ট্রিক, হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা এসব ছোটখাট সমস্যা আপনার ভ্রমণের আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, শ্যাম্পু এসব নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু গুছিয়ে নিন।

ঘুমের সুবিধার্থে:

নেক পিলো, চোখের মাস্ক, এয়ার প্লাগ সাথে নিতে পারেন। ভ্রমণে প্রয়োজণীয় মাত্রার ঘুম আপনাকে তরতাজা রাখবে। তবে অবশ্যই ব্যাগে সহজে এঁটে যায়, কম ওজন এবং কমজায়গা নেয় এমন জিনিস নিন।

ব্যাগে জায়গা বাঁচাবেন যেভাবে কাপড় গোল করে ভাজ করুন। ভ্রমণের জন্য আলাদা ছোট টুথব্রাশ, ছোট পেস্ট, মিনি প্যাক শ্যাম্পু, ছোট রেজার নিন। একটাই জুতা নেয়ার চেষ্টা করুন। যদি আরও নিতেই হয় তাহলে জুতার ভেতরের অংশে ঢুকিয়ে ফেলুন ব্রাশ, পেস্ট বা ছোট কাপড়গুলো (মোজা, গেঞ্জি ইত্যাদি)।কাগজপত্র এলোমেলো না নিয়ে পাতলা কোন ফাইলে নিন। খেয়াল করবেন, ফাইলটি যেন আলাদা জায়গা না নেয়।

দরকারি কিছু জিনিস ভুলে যাবেন না

রেইনকোট বা ছাতা সানগ্লাস পাওয়ার ব্যাংক পরিচয়পত্র/ দরকারি কাগজপত্র অবশ্যই ম্যালেরিয়া প্রতিশেধক খেয়ে যাবেন।

যা যা করবেন না:

অযথা ব্যাগ ভারী করবেন না।
আরামদায়ক নয় এমন জুতা বা পোশাক নেবেন না।
ভ্রমণে সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, কোনভাবেই বিবাদে জড়াবেন না।
পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখুন, আপনার স্বসাচ্ছন্দ্য যেন অন্যকে ডিস্টার্ব না করে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

দয়াকরে পরিবেশের ক্ষতি করবে না।

কোই যান একটি ব্লগ, বাংলাদেশের সকল ভ্রমণ তথ্য এবং পরামর্শ একজায়গায় করার লক্ষে কোই যান এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে। কই যান.কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পর্যটন ও ভ্রমণ সম্পর্কিত ওয়েব সাইট। ভ্রমণের ক থেকে ‍ঁ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। লিখা সম্পর্কে যেকোনো পরামর্শ অথবা কপি রাইট এর বেপারে লিখুন : [email protected]

সর্বাধিক জনপ্রিয় বিষয়গুলি

আমাদের পছন্দের লিখা গুলি