বান্দরবান – নীলগিরি – থানচি – রেমাক্রি – নাফাখুম – জলপ্রপাত – স্বর্ণ-মন্দির 188

বান্দরবান – নীলগিরি – থানচি – রেমাক্রি – নাফাখুম – জলপ্রপাত – স্বর্ণ-মন্দির
আমাদের ভ্রমন টা ছিল ২ দিন এক রাতের । ঢাকা থেকে ৯ মে ২০১৮ রাত ১০.১৫ মিনিট এ পান্থপথ থেকে বান্দরবান এর উদ্দেশে আমরা ১০ জন বন্ধু যাত্রা শুরু করি । বান্ধরবান শহরে সকাল ৭ টার কিছু পরে বাস থেকে নামি । বাস থেকে নেমেই পাশের একটি হোটেল এ দ্রুত সবাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ঢাকায় ফিরার অগ্রিম টিকেট কেটে ফেলি । এর পর নীলগিরি হয়ে থানচি যাবার জন্য চাঁদের গাড়ি ভাড়া করা হয় । আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বিকেল ৫ টার মধ্যে থানচি হয়ে রেমাক্রি যাব । বান্দরবান থেকে প্রথমে নীলগিরি তে আমরা নামি এক ঘণ্টার মত সময় নীলগিরি তে থেকে থানচির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। বান্দরবান থেকে নীলগিরি হয়ে থানচি পৌছাইতে আমাদের ৪ ঘণ্টার মত সময় লাগে । থানচি পৌঁছানোর পর আমাদের আগে থেকেই ঠিক করে রাখা গাইড কে ফোন দেই , গাইড আসার পরে আমাদের পাশের একটি হোটেল এ নিয়ে যায়। এর পর ২ টা ফরম পুরন করার জন্য দেয় যেটার মাধ্যমে পুলিশ এর অনুমতি নিতে হবে । পুলিশ এর অনুমতি পেতে অবশ্যই জাতীয় পরিচর পত্র অথবা জন্মসনদ অবথা ছবিযুক্ত যেকোনো আইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে করে নিয়ে যাইতে হবে । ফরম পুরন শেষে আমরা দুপুরের খাবার শেষ করেই থানচি থানায় যাই গাইড সহ, সেখানে পুলিশ এর অনুমতি নিয়ে এর পর যাই বিজিবি এর অনুমতি নিতে। বিজিবির অনুমতি শেষ এ আমরা নৌকায় সাঙ্গু নদী দিয়ে রেমাক্রি এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি, নৌকা গাইড ঠিক করে রেখেছিল । এর পর মূল সৌন্দর্য দেখা শুরু দুই পাশে বিশাল পাহাড় এর মাঝে নদী, নদীর দুই পাশে বড় বড় পাথর, রাজা পাথর, রানী পাথর এর প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে বিকেল ৫ টার কিছু পূর্বে আমরা রেমাক্রি পৌছাই । গাইড আগে থেকেই থাকার জন্য কটেজ ঠিক করে রেখেছিল, আমরা সেখানে আমাদের ব্যাগ রেখেই একটু নিজেদের মত ফ্রেশ হয়ে পাশেই অবস্থিত রেমাক্রি জলপ্রপাত এ গোছল ও বিকেলটা কাটানোর জন্য যাই, সন্ধ্যা পর্যন্ত রেমাক্রি জলপ্রপাত এ অবস্থান এর পর কটেজ এ ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে রেমাক্রি বাজার এ চা – নাস্তা খেতে যাই, সেখানে আড্ডা দিয়ে রাতের খাবার খেতে যাই, রাতের খাবার কি খাব আমরা সেটা আগেই গাইড কে বলে দিয়েছিলাম, বাকি কাজ গাইড করেছে 🙂 আমরা খাওয়া দাওয়া শেষ করে কটেজ এ ফিরে আসলাম, এর পর মানে আমাদের দ্বিতীয় দিন এর লক্ষ সকাল ৫ টায় বের হব নাফাখুম এর উদ্দেশে । পর দিন সকাল ৫ টার কিছু পড়ে নতুন গাইড সহ নাফাখুম জলপ্রপাত এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি, নতুন গাইড কে ও ঠিক করেছে থানচি থেকে আসা আমাদের পুরনো গাইড হারুন ভাই । সকালের নাস্তা আমরা নাফাখুম যাবার পথেই একটা ছোট্ট দোকানে করেছিলাম । ২ ঘণ্টা ঝিরি পথ অতিক্রম করার পর নাফাখুম জলপ্রপাত এ পৌছাই 🙂 🙂 এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় সেখানে থেকে আবার রেমাক্রি এর উদ্দেশে দ্রুত যাত্রা শুরু করি, এর পরের লক্ষ থানচি হয়ে বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির ও নীলাচল দেখব । রেমাক্রি কটেজ এ এসে নিজেদের ব্যাগ ও যাবতীয় জিনিষ নিয়ে সব টাকা পরিশোধ করে থানচি এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি নৌকায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে থানচি পৌছাইতে এর পর হোটেল এ গিয়ে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার শেষ করে গাইড ও নৌকার টাকা পরিশোধ করে চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির ও নীলাচল এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি, সময় সল্পতায় নীলাচল যাবার সুযোগ হয় নি আমাদের, স্বর্ণ মন্দির সন্ধ্যা পর্যন্ত থেকে আমরা বাস কাউন্টার এ চলে আসি, এর পর হালকা নাস্তা করে রাত ৮.৩০ এর বাস এ ঢাকায় ফেরার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি।

বিঃদ্রঃ থানচি, রেমাক্রি এর মানুষ অনেক ভালো । তাদের সাথে ভাল ব্যবহার বজায় রাখবো এবং ময়লাগুলো (চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল বা অন্য ময়লা )যেখানে-সেখানে না ফেলে একসাথে জমা করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবো। আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সুন্দর রাখবো এবং অন্যকে এই বিষয়ে সচেতন করবো।

কোই যান একটি ব্লগ, বাংলাদেশের সকল ভ্রমণ তথ্য এবং পরামর্শ একজায়গায় করার লক্ষে কোই যান এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে। কই যান.কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পর্যটন ও ভ্রমণ সম্পর্কিত ওয়েব সাইট। ভ্রমণের ক থেকে ‍ঁ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। লিখা সম্পর্কে যেকোনো পরামর্শ অথবা কপি রাইট এর বেপারে লিখুন : [email protected]

সর্বাধিক জনপ্রিয় বিষয়গুলি

আমাদের পছন্দের লিখা গুলি