ব্যাকপ্যাকিং সাউথ ইস্ট এশিয়া পর্ব : ফিলিপাইন 509

6.3 out of 10

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বিপ রাষ্ট্র ফিলিপাইন।

প্রায় ৭৫০০ এর অধিক দ্বীপপুঞ্জের সমষ্টি এই দেশ। নীল জলরাশির মাঝে ছবির মতো সাজানো দ্বীপগুলী এক কথায় অসাধারণ।
আমার একটা প্ল্যান ছিল নিউ সেভেন ন্যাচারাল ওয়ান্ডারস এর সবগুলি স্থান দেখা। সেই অনুযায়ী এইবার আমার টার্গেট পুয়ের্তো প্রিণচেসা সাবটেরানীয়ান রিভার ন্যাশনাল পার্ক। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের প্লেন যাত্রা পালাওয়ান এর পুয়ের্তো প্রিণচেসা শহর। আর পালাওয়ান থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে এই সাবটেরানীয়ান রিভার ন্যাশনাল পার্ক অবস্থিত। প্রায় ৮.২ কিলোমিটার লম্বা এই নদী লাইমস্টোন ক্রাস্টের পাহাড়ের নিচ দিয়ে বয়ে গিয়ে মিশেছে ফিলিপাইন সাগরে। ছোটো আকারের বৈঠা নৌকায় করে যখন পাহাড়ের নিচ দিয়ে বহমান নদীর ভিতর ঢুকলাম সেই রহস্যঘেরা পরিবেশের বর্ণনা লিখে বুঝানো আমার পক্ষে সম্ভব না। Stalactites আর Stalagmites নামক প্রাকৃতিক পাথরের অসাধরন রহস্যময় কম্বিনেশনে এক মায়াজাল তৈরি করে রেখেছে পাহাড়ের নিচ দিয়ে বহমান এই নদী। কিছু কিছু জায়গায় বিরাট আকৃতির ডোম এর মধ্যে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির লাস্ট সাপারের মতো আবার কিছু কিছু জায়গায় মনে হচ্ছে ক্রাইস্ট দা রীডিমার বুঝি দুহাত মেলে দাড়িয়ে আছে পাথরের এই রাজ্যে। কিছু জায়গা দেখে মণে হবে যেন কোন এক ফসলী সবজী খেতের মাঝ দিয়ে যাচ্ছি। stalactite আর Stalagmites এর এই সব প্রাকৃতিক গঠন যেই রহস্যময় আবহ তৈরি করেছে তা দেখে খালি শিহরিতই হয়েছি। মুগ্ধতায় কেটে গেলো পুরটা সময়।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে মালয়শিয়া হয়ে ম্যানিলা যেতে হবে। ম্যানিলা থেকে পুয়ের্তো প্রিণচেসার ডাইরেক্ট ফ্লাইট আছে। ভাড়া পড়বে ২৫০০ পেসো (১ পেসো = ১.৬৫ টাকা)
সেখান থেকে যেকোনো একটা ট্যুর কোম্পানি থেকে ডে লং আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার ট্যুর কিনা যায়। ১৫০০ থেকে ১৬০০ পেসো পড়বে। যাওয়া আসা, সব এন্ট্রি ফী, আর দুপরের খাওয়া সহ এই চার্জ।

ভিসাঃ ফিলিপাইনের ভিসার জন্য এখন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামুলক। আমেরিকার ভ্যালিড ভিসা থাকলে নাকি অবশ্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লাগেনা। ভিসা ফী ৩৬০০ টাকা আর এজেন্ট কমিশন ৫০০ টাকা নিবে। সব কাগজপত্র জমা দিলে ১০ দিনের মধ্যে ভিসা দিয়ে দেয়।

থাকা খাওয়াঃ

থাকার জন্য অনেক হোটেল আছে ৭০০-৮০০ পেসোর মধ্যে। আর ১০০-১২০ পেসোর মধ্যে হয়ে যাবে খাওয়া। শহরের ভিতর চলাচলের জন্য আছে ট্রাইসাইকেল। প্রতি রাইড ১০-২০ পেসোর মধ্যে।

হ্যাপি ট্রাভেলিং

লিখেছেন: আব্দুল্লাহ আল মামুন

কোই যান একটি ব্লগ, বাংলাদেশের সকল ভ্রমণ তথ্য এবং পরামর্শ একজায়গায় করার লক্ষে কোই যান এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে। কই যান.কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পর্যটন ও ভ্রমণ সম্পর্কিত ওয়েব সাইট। ভ্রমণের ক থেকে ‍ঁ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। লিখা সম্পর্কে যেকোনো পরামর্শ অথবা কপি রাইট এর বেপারে লিখুন : [email protected]

সর্বাধিক জনপ্রিয় বিষয়গুলি

আমাদের পছন্দের লিখা গুলি