সিলেট ভ্রমন (৩ রাত ২ দিন) 118

সিলেট ভ্রমন (৩ রাত ২ দিন) :

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসলাম সিলেট থেকে। এই টু্্যরে অামরা কভার করেছি :
১)
প্রথমে বলে দেই আমরা ১০ জনের গ্রুপ ছিলাম।এর সুবাদে খরচ অনেকটাই ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে।

আমরা ঈদের পরের দিন ২৩ তারিখ রাত্রে ঢাকা থেকে বাসে করে রওনা দেই। প্লানিং এ একটু দেরী হয়ে যাওয়ায় টিকেট কাটতে গিয়ে দেখি টিকেট এর আকাল এবং ঈদের ভিড়ের জন্য আমাদের টিকেট কাটতে কষ্ট হয়েছে। খরচটা অামি সবার শেষে ডিটেইলস জানাবো।

আমাদের প্লানিং টা এরকম ছিলো :
১ম দিন – রাতারগুল+বিছানাকান্দি
২য় দিন- জাফলং+লালাখাল+তামাবিল স্থল বন্দর+আগুন পাহাড়।

আপনি আপনার ইচ্ছা মতো ১ম দিন ও ২য় দিনের প্লান সুইচ করে নিতে পারেন। তবে যারা শেষদিনের নাইট কোচের ট্রেন বা বাসের টিকেট অগ্রীম কেটে রাখবেন, তারা রাতারগুল-বিছানাকান্দি প্রথমদিন ঘুরে আসুন। নইলে বাস/ট্রেন মিস হয়ে যেতে পারে। কেননা বিছানাকান্দি যাওয়া-আসায় প্রায় ৬ ঘন্টা লাগে, বিছানাকান্দি গিয়ে লাঞ্চ করা, গোসল করা, ইন্ডিয়া মার্কেটে ঘুরতে ঘুরতে মিনিমাম ১.৫-২ ঘন্টা লাগবে, সেই হিসেবে প্রায় ৮ ঘন্টা ব্যয় হবে। আর রাতারগুলে প্রায় ২.৫-৩ ঘন্টা ব্যয় হয়। সকাল ৮-৯ টায় বের হলেও সিএনজি/লেগুনায় যাওয়া আসার ২.৫ ঘন্টা আর রাতারগুল-বিছানাকান্দি ঘোরার ১১ ঘন্টা মিলিয়ে প্রায় ১৩-১৪ ঘন্টার মতো সময় যায়।

১ম দিন:
সকালে সিলেট পৌছেই সিলেট বাসষ্ট্যান্ড থেকে সিএনজি তে করে ডিরেক্ট পানসীতে চলে যাই। পানসী তে নাস্তা করেই একটা লেগুনা রিজার্ভ করি।
রাতারগুল+বিছানাকান্দি – ২৫০০ টাকা

রাতারগুল যাওয়ার জন্য আমরা প্রথমে যাই “মাঝের ঘাট” কিন্তু মাঝের ঘাটে প্রতি নৌকা ১৫০০ টাকা। আপনি যদি এর অর্ধেক দামে রাতারগুল ঘুরে অাসতে চান তাহলে চলে যান “চৌরঙির ঘাটে” (মাঝের ঘাটের রাস্তায় না ঢুকে সোজা ৫ মিনিট গাড়ি নিয়ে এগুলেই চৌরঙির ঘাটের রাস্তা পাওয়া যায়। অনেক লেগুনা ড্রাইভার ই বলবে তারা এটা চিনে না কিন্তু এটা মাত্র ৫ মিনিট দুরত্ব সামনে গেলেই সাইনবোর্ডে লিখা পাবেন)। সেখান থেকে অামরা ২ টি নৌকা নিয়ে রাতারগুল গেলাম মাত্র ১৫০০ টাকায়। (চৌরঙি ঘাটে রাতারগুল প্রতি নৌকা ভাড়া ৭৫০ টাকা)। সেখান থেকে রাতারগুল ঘুরে এসে লেগুনাতে করে বিছানাকান্দি এর উদ্দেশ্যে অামরা চলে যাই হাদাপাড়া ঘাটে। সেখানে দুপুরের খাবার শেষে অারেকটি ১০ জনের গ্রুপের সাথে এড হয়ে বড় একটি ট্রলার ভাড়া করি ২৫০০ টাকায়। অামরা দিয়েছিলাম ১২৫০ টাকা।

২য় দিন: 
আগের দিন রাত্রেই আমরা লেগুনা ঠিক করে রাখি,
জাফলং+লালাখাল±তামাবিল স্থলবন্দর+অাগুন পাহাড়- ৩০০০ টাকা (রিজার্ভ)

আবারও সকালে পানসী থেকে সকালের নাস্তা সেড়ে প্রথমে চলে যাই লালাখাল। সেখানে ১ ঘন্টা ৬০০ টাকা দিয়ে ট্রলার ভাড়া করে চা বাগান, সুপারী বাগান ও জিরো পয়েন্ট ঘুরি। এখানে সময় টা একটু মাথায় রাখবেন। সময়ের উপর ট্রলার ভাড়া বেড়ে যায়। এর পর সেখান থেকে চলে যাই তামাবিল স্থল বন্দর। জাফলং এ নদী পার হয়ে ঘুরে আস্তে পারেন খাসিয়া পল্লী, জাফলং ঝর্ণা। সেখান থেকে ঘুরে সিলেট শহরে ফিরে আসার সময় আগুন পাহাড়ে চলে যান। সন্ধার পর আগুন পাহাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, তাহলে আগুন ভালোমতো বুঝা যাবে।

রাত ৮ টার মধ্যে সিলেট শহরে এসে চলে গেলাম হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজার দেখতে। এরপর ডিনার শেষ করে ক্বীন ব্রীজের নিচে কিছু ভালো সময় কাটিয়ে উঠে পড়লাম ঢাকার বাসে।

বিস্তারিত খরচঃ-
ঢাকা-সিলেট (বাস ভাড়া) : ৫০০ টাকা২) বিছানাকান্দি ৩)
সিলেট-ঢাকা (বাস ভাড়া) : ৪৭০ টাকা

১ম দিনঃ- 
 সিলেট বাসষ্ট্যান্ড –পানসী হোটেল জন প্রতি ২০/- টাকা
 পানসী হোটেলে সকালের নাস্তা জনপ্রতি ৩৫/- টাকা।
 লেগুনা রিজার্ভ : ২৫০০ টাকা (পানসী-চৌরঙ্গি ঘাট-হাদার ঘাট-থাকার হোটেল ( জনপ্রতি ২৫০/- টাকা)।
 চৌরঙ্গী ঘাট-রাতারগুল-চৌরঙ্গী ঘাট (জনপ্রতি ১৫০ টাকা)।
 দুপুরের খাবার হাদার ঘাটে (জনপ্রতি ৬০ টাকা)।
 হাদারঘাট-বিছানাকান্দি-হাদারঘাট : ট্রলার রিজার্ভ : ১২৫০ টাকা (জনপ্রতি ১২৫ টাকা)।
 রাতে পানসী হোটেলে খাবার : (জনপ্রতি ১০০ টাকা)।

২য় দিনঃ-
 সকালের নাস্তা জনপ্রতি ৩৫/- টাকা
 লেগুনা রিজার্ভ (থাকার হোটেল-পানসী রেস্টুরেন্ট-লালাখাল-তামাবিল-জাফলং-আগুন পাহাড়-শাহজালাল মাজার): ৩০০০ টাকা (৩০০ টাকা জনপ্রতি)
 লালাখাল ১ ঘন্টা ট্রলার রিজার্ভ : ৬০০ টাকা ( ৬০ টাকা জনপ্রতি)।
 জাফলং নদী পারাপার আপডাউন : ২০×২= (জনপ্রতি ৪০ টাকা)।
 জাফলং এ দুপুরের খাবার ৮০ টাকা জনপ্রতি।
 রাতের খাবার পানসীতে : (জনপ্রতি ১০০ টাকা)
 পানসী থেকে ক্বীন ব্রীজের নিচে সিএনজি : (জনপ্রতি ১০ টাকা)
 ক্বীন ব্রীজ থেকে বাস ষ্ট্যান্ড সিএনজি : (জনপ্রতি ১০ টাকা)

আমাদের ৩ রাত ২ দিনে জনপ্রতি মোট খরচ হয়েছিল ২৩৪৫ টাকা (হোটেল বাদে)। এক বন্ধুর পরিচিত হোটেল থাকায় সেখানে আমরা ফ্রী থাকতে পেরেছি। তবে মাজার গেটে হোটেল ভাড়া একটু বেশী। লাল বাজার/বন্দর বাজারের ঐদিকে ১৫০ টাকার বেশী হোটেল খরচ লাগবেনা অাশা করি। অার হ্যাঁ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী বৃষ্টিপাত সিলেট জেলাতে হয়। তাই ছাতা/রেইনকোর্ট নিতে ভুল করবেন না।

বিঃদ্রঃ যে কোন টুরিষ্ট এরিয়াতে গিয়ে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন। পানিতে/টুরিষ্ট এরিয়াতে সিগারেটের খালি প্যাকেট, চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল দয়া করে ফেলবেন না।

কোই যান একটি ব্লগ, বাংলাদেশের সকল ভ্রমণ তথ্য এবং পরামর্শ একজায়গায় করার লক্ষে কোই যান এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে। কই যান.কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পর্যটন ও ভ্রমণ সম্পর্কিত ওয়েব সাইট। ভ্রমণের ক থেকে ‍ঁ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। লিখা সম্পর্কে যেকোনো পরামর্শ অথবা কপি রাইট এর বেপারে লিখুন : [email protected]

সর্বাধিক জনপ্রিয় বিষয়গুলি

আমাদের পছন্দের লিখা গুলি