সূর্যোদয়ের দেশ জাপান কিন্তু কেন? 5230

সূর্যোদয়ের দেশ জাপান।জাপানের আরেক নাম হচ্ছে নিপ্পন, আর এই নিপ্পন নামের অর্থই হচ্ছে সূর্যোদয়ের দেশ। প্রাচীন সাহিত্যে এবং বিশেষ করে চীন এবং জাপানের রাজদরবারের কূটনৈতিক দলিলে নিপ্পন বা সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে জাপান কে নামকরনের প্রমান পাওয়া যায়।

আসলে, চীনের দিকে থেকে চিন্তা করলে সূর্য প্রথম জাপানেই ঊদয় হয়।জাপানের এই নামকরনের পিছনে ধর্মীয় কারনও রয়েছে, জাপানিজ সিন্ত ধর্মের মিথ বলে জাপানের সম্রাটগন সূর্য দেবতা ‘আমাতেরাসু’ এর বংশধর এবং দেবালয় থেকেই তারা জাপানের শাসনকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এইভাবে, ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় সব দিক থেকেই, জাপান কে সূর্যোদয়ের দেশে হিসেবে নামকরনের সার্থকতা রয়েছে।তাই সূর্যোদয় নিয়ে জাপানিজদের মধ্যে খুব ফ্যাসিনেশন দেখা।

মন্দির, পার্ক, পাহাড় সাগর, লেক, থেকে শুরু করে প্রায় সকম ঐতিহাসিক জায়গা গুলোই এমন ভাবে গড়া হয়েছিল যেন এসব জায়গা থেকে সূর্যোদয় অথবা কমপক্ষে সূর্যাস্ত দেখতে পারা চাই। যেই যেই জায়গাগুলো থেকে সূর্যোদয় সবথেকে ভাল ভাবে দেখা যায়, সেইখানে সিন্ত ধর্মের মন্দির বা বৌদ্ধ ধর্মের মন্দির স্থাপণ করে হয়েছিল সেই প্রাচীন কালেই। আর এইসব জায়গা গুলোতে পর্যটকদের ভীর ও চোখে পরার মত।

কিছু কিছু স্থান আছে সেইখানে সেই ভোর বেলাতেও ফোটোগ্রাফার দের এতো ভির হয় যে ক্যামেরার স্টান্ড সেট করার বা সব থেকে ভাল ভিউ পাবার জায়গা পেতে শীতের মধ্য রাতেই ক্যামেরার স্ট্যান্ড সেট করে জায়গা দখল করে রাখতে হয়।আর অনেকটা ভৌগোলিক এবং আবোহাওয়াজনিত কারনে জাপানের সূর্যোদয়ের সময়ে আকাশে রঙের পরিবর্তন দেখা মত।জানিনা এই সূর্যোদয় অন্য দেশ থেকে বা আমার নিজ দেশ থেকে অন্যরকম কিনা।

নিজ দেশের সূর্যোদয়ের এইভাবে দেখার বা তোলার সুযোগ হয়নি কখনও, সৌভাগ্যক্রমে সুযোগ হয়েছিলে জাপানের কিছু কিছু বিশেষ জায়গায় এবং তাইওয়ানে সূর্যোদয় দেখার। তবে নিজ দেশের সূর্যোদয় একদম যে দেখিনি তা বললে ভুল হবে, ছোট বেলায়, গ্রাম থেকে ঢাকা আসার জন্য একবার সূর্যোদয়ের সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল গলাচিপার (পটুয়াখালি জেলার) কাজল নদীর (আরেক নাম তেতুলিয়া নদী, এই নদীর নিচের অংশেই পায়ড়া বন্ধর নির্মাণ হচ্ছে)।

সেই প্রায় সারে চার কিলোমিটার চওড়া এক নদীতে সূর্যোদয় মাঝে মাঝে এখন ও চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই, এই যেমন এই লেখাটা লেখার সময় মনে হচ্ছে আমি বুঝি সেই নদীর পাড়েই সূর্যোদয়ের রক্তিম সূর্যের সাথে বসে আছি। এখন আপনারা কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন কোন সূর্যোদয় সেরা, তাহলে হয়তো স্মৃতি ও আবেগজনিত কারনে কাজল নদীর পাড়ের সূর্যোদয় কে সেরা বলে ভোট দিব। তবে আজকাল দেশে যেইভাবে নগরায়ন হচ্ছে, তাতে ধোঁয়াশা (Smog) ঢাকা আকাশে সূর্যোদয় দেখার কল্পনা আকাশকুসুমই মনে হবে।সেই আকাশকুসুম কল্পনার ভিড়েই, জাপান এবং তাইওয়ান এ তোলা আমার কিছু ছবি দিচ্ছি।

লিখেছেন: শিবলী সাদিক

এক্ষুনি কই যান এ সাবস্ক্রাইব করুন

দেশ বিদেশের ট্রাভেলিং এর খুঁটিনাটি, মজার মজার সব ভ্রমণ কাহিনী, ট্রাভেল টিপস, ভাড়া, গাইড, ১ দিনের ট্যুর, ৩ দিনের ট্যুর। এসব আপনার ইমেইল এ পেতে এক্ষুনি কই যান এ সাবস্ক্রাইব করুন

Thank you for subscribing.

Something went wrong.

Previous ArticleNext Article
কোই যান একটি ব্লগ, বাংলাদেশের সকল ভ্রমণ তথ্য এবং পরামর্শ একজায়গায় করার লক্ষে কোই যান এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে। কই যান.কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পর্যটন ও ভ্রমণ সম্পর্কিত ওয়েব সাইট। ভ্রমণের ক থেকে ‍ঁ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। লিখা সম্পর্কে যেকোনো পরামর্শ অথবা কপি রাইট এর বেপারে লিখুন : [email protected]

সর্বাধিক জনপ্রিয় বিষয়গুলি

আমাদের পছন্দের লিখা গুলি

এক্ষুনি কই যান এ সাবস্ক্রাইব করুন

দেশ বিদেশের ট্রাভেলিং এর খুঁটিনাটি, মজার মজার সব ভ্রমণ কাহিনী, ট্রাভেল টিপস, ভাড়া, গাইড, ১ দিনের ট্যুর, ৩ দিনের ট্যুর। এসব আপনার ইমেইল এ পেতে এক্ষুনি কই যান এ সাবস্ক্রাইব করুন

কই যান এ সাবস্ক্রাইব করার জন্য ধন্যবাদ

কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে

এক্ষুনি কই যান এ সাবস্ক্রাইব করুন

দেশ বিদেশের ট্রাভেলিং এর খুঁটিনাটি, মজার মজার সব ভ্রমণ কাহিনী, ট্রাভেল টিপস, ভাড়া, গাইড, ১ দিনের ট্যুর, ৩ দিনের ট্যুর। এসব আপনার ইমেইল এ পেতে এক্ষুনি কই যান এ সাবস্ক্রাইব করুন

কই যান এ সাবস্ক্রাইব করার জন্য ধন্যবাদ

কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে